‘বি পজেটিভ’ গ্রুপের রক্ত’কে গরুর রক্ত বলা হয় কেন?

কারো রক্তের গ্রুপ ‘বি পজেটিভ’ জানার পর “তোমার তো গরুর রক্ত” এই কথা বলেনা এরকম মানুষ কম আছে এদেশে। এই কথা বলার কারণ আমরা অনেকেই জানি না। কেউ হয়ত ভাবে গরুর রক্তের গ্রুপ, ‘বি পজেটিভ’ রক্তের গ্রুপের মানুষের মতো।

প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীতে যত মেরুদণ্ডী প্রাণী আছে তাদের সকলের রক্তই সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে রাসায়নিক গঠনের জন্য পার্থক্য সৃষ্টি হয়৷ আর তাই কোন প্রাণীর রক্ত কখনোই অন্যকোনো প্রাণীর রক্তের অনুরূপ হতে পারেনা।

রক্তের লোহিত কণিকায় অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের গ্রুপিং সিস্টেম করা হয়েছে। মানুষের ক্ষেত্রে ABO সিস্টেম ও Rh ফ্যাক্টর সিস্টেম পুরো পৃথিবীতে প্রচলিত। এই দুই সিস্টেম অনুযায়ী A, B, O ও AB এই চার ধরনের রক্তের গ্রুপের প্রতিটির পজেটিভ ও নেগেটিভ অ্যান্টিজেন রয়েছে। অর্থাৎ, মানুষের দেহে এই আট ধরনের রক্তের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
অন্যদিকে গরুর রক্তে রয়েছে ১১টি প্রধান রক্তের গ্রুপ। এগুলো হল- A, B, C, F, J, L, M, R, S, T ও Z। তার মধ্যে কেবলমাত্র B গ্রুপেরই রয়েছে ৬০ এর বেশি অ্যান্টিজেন। এর বাইরেও রয়েছে আরও কিছু অপ্রধান গ্রুপের রক্ত যেগুলো সচরাচর পাওয়া যায় না। অর্থাৎ, মানুষের রক্তের গ্রুপ আর গরুর রক্তের গ্রুপ কখনোই এক হতে পারেনা।

এশিয়া মহাদেশের প্রায় ৩০% মানুষ ‘বি পজেটিভ’ গ্রুপের রক্তের অধিকারী যা অন্যসকল গ্রুপের রক্ত বহনকারীদের তুলনায় অনেক বেশি৷ আর এই সহজলভ্যতার বিষয়টির জন্য ‘বি পজেটিভ’ গ্রুপের রক্তকে মজা করে গরুর রক্ত বলা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top