জিয়াউর রহমান একজন সাহসী সেনা অফিসার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক…

জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সরকারের অধীনস্থ একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৭১সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর হামলা করলে তিনি তাঁর পাকিস্তানি কমান্ডার জানজুয়াকে হত্যা করে বিদ্রোহ করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের অনুগত হয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
পেশাদারিত্বের উর্ধ্বে জাতির মুক্তির আকাঙ্খাকে স্থান দিয়েছিলেন অসীম সাহসিকতায়।

১৯৭১সালের সালের ২৭শে মার্চ শেখ মুজিবর রহমানের পক্ষে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন জিয়াউর রহমান।
এছাড়াও তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক। যার জন্য তিনি বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হয়েছিলেন।

১৯৭৫সালের ১৫ই আগস্টে শেখ মুজিবর রহমানের মৃত্যুর পর জিয়াউর রহমান বলেছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় বসা উচিত এবং সংবিধানকে উর্ধ্বে তুলে ধরা উচিত। সেদিন জিয়াউর রহমানের কথা শোনা হলে খন্দকার মোশতাক আহমেদ ক্ষমতায় বসতো না আর জেলহত্যাও হতো না৷ এছাড়াও ৭ই নভেম্বর পর্যন্ত যে অভ্যুত্থান আর পাল্টা অভ্যুত্থানের মতো বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেছে সেটাও ঘটতো না।

আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর জিয়াউর রহমানকে চীফ-অফ-আর্মি স্টাফ পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে তার বাসভবনে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সেনাসদস্যরা ৭ই নভেম্বরের পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটায় যার ফলে মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ, কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ টি এম হায়দার নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ১০ম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের হাতে নিহত হয়।
সেনাবাহিনীতে জিয়াউর রহমানের অত্যাধিক জনপ্রিয়তার কারণেই তিনি গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন সাথে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বও।

ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে নানাভাবে। যার মধ্যে থেকে মুছে যাচ্ছে স্বাধীনতার যুদ্ধে একজন সাহসী সৈনিকের বীরত্বপূর্ণ অবদান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top