রক্তদানের উপকারিতা ও অপকারিতা প্রসঙ্গে…

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজেরই উপকারিতা এবং অপকারিতা উভয়ই রয়েছে। রক্তদানের ক্ষেত্রেও উপকারিতার পাশাপাশি অপকারিতা আছে। কিন্তু আমরা সবসময় অপকারিতার কথা ভেবেই রক্তদান করতে ভয় পাই। এর উপকারিতার দিকগুলো ভেবে দেখিনা।

চিকিৎসকদের মতে ১৮থেকে৪৫বছর বয়েসী শারিরীক ভাবে সুস্থ নারী-পুরুষ ৯০দিন পরপর রক্তদান করতে পারেন৷ এক্ষেত্রে পুরুষের সর্বনিম্ন ওজন হতে হবে ৪৮কিলোগ্রাম ও নারীর ৪৫কিলোগ্রাম৷

একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের শরীরে গড়ে ৫ থেকে ৬লিটার রক্ত থাকে। প্রতিবার রক্তদানের সময়ে ৪৫০মিলিলিটার রক্ত দেয়া হয়। এতে রক্তদাতার কোনপ্রকার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকেনা।

রক্তদানের পর কিছুটা মাথা ঘোরাতে পারে। এটা স্বাভাবিক। এজন্য চিকিৎসকরা রক্তদানের পর কিছুক্ষণ সময় বিশ্রাম নিতে বলেন। রক্তদাতা যদি ঘামতে থাকেন ও অস্থিরতা বোধ করেন তাহলে তাকে স্যালাইন খাওয়াতে হবে। রক্ত দেয়ার সময়ে শরীর থেকে রক্তের পাশাপাশি ২৫০ থেকে ৩০০মিলিগ্রাম আয়রন কমে যায় তাই ক্ষয়পূরণে আয়রন ও প্রোটিন যুক্ত খাবার বেশি খেতে হয়।

রক্তদান করে একজন মানুষের জীবন বাঁচানো যায়। নিয়মিত রক্তদাতার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। বছরে অন্তত ৩বার রক্তদান করলে শরীরে নতুন লোহিত কণিকা তৈরির হার বেড়ে যায়, যা আমাদের অস্থিমজ্জা সচল রাখে।
নিয়মিত রক্তদাতার রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়, এতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

রক্তদানের অপকারিতা এর উপকারিতার তুলনায় খুবই নগণ্য। তাই আমাদের সবার উচিত নিয়মিত রক্তদান করা ও অন্যদের রক্তদানে উৎসাহিত করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top