এদেশের যত নিম্নশ্রেণীর মানুষ ও আমাদের সরকারি হাসপাতাল…

মানুষের মধ্যে সত্যিই কোনপ্রকার শ্রেণীবিভাগ হয় কিনা আমার জানা নেই। কিন্তু আর্থিক দিক বিবেচনায় মানুষের শ্রেণিবিভাগ আমরা করি৷ বেঁচে থাকার তাগিদে চিকিৎসা সেবার প্রয়োজন সকল শ্রেণিবিভাগের মানুষেরই হয়ে থাকে। আর নিম্নশ্রেণীর মানুষের চিকিৎসা দেশের সরকারি হাসপাতাল গুলাতেই হয়। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যয় তারা বহন করতে পারেনা।

নিম্নশ্রেণীর মানুষ সবসময়েই অবহেলিত, সেই সাথে তাদের ব্যবহৃত সরকারি হাসপাতাল গুলোও। জনপ্রতিনিধিরা দুটো সময়ে সরকারি হাসপাতালে পা রাখেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময়ে আর শুভ উদ্বোধন করার সময়ে। নিজেদের চিকিৎসা তারা সিঙ্গাপুরে বা লন্ডনে করাতে পছন্দ করেন। দেশে হলে বেসরকারি হাসপাতালের বড় ডাক্তার তাদের বাসায় চলে যায় চিকিৎসা করতে।

একজন রক্তদাতা ও সেচ্ছাসেবী হওয়ার সুবাদে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে আমাকে যেতে হয়। এখনকার সময়ে রক্ত খুব সহজে কিনতে পাওয়া গেলেও ঐসকল নিম্নশ্রেণীর মানুষদের রক্ত কিনবার মতো পর্যাপ্ত টাকা থাকেনা৷ আমি রক্তদাতা নিয়ে যাই৷ ডাক্তার(সে আসলেই ডাক্তার কিনা আমার জানা নেই) আঙ্গুলের মাথা ফুটা করে ছোট একটা কাঁচের টুকায় খানিকটা রক্ত নিয়ে দুয়েকটা মেডিসিন মিশিয়ে খালি চোখে দেখেই গ্রুপ পরীক্ষা করে। এছাড়া কোনপ্রকার পরীক্ষা করা হয়না। রক্তদাতার এইডস্ও থাকতে পারে। এই ব্যাপারে তাদের কোনপ্রকার ভ্রূক্ষেপ নেই।

রক্ত নেয়ার পর ক্রস ম্যাচিং এর নামে ২৫০টাকা রোগীর স্বজনদের থেকে আদায় করা হয়। কিন্ত ক্রচ ম্যাচিং কখন করে সেটা আমি আজও বুঝে উঠতে পারিনি। এই টাকা নেয়ার সময়ে কোনপ্রকার রশিদও প্রদান করা হয়না।

সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নেই তাই পুরো হাসপাতালটাই ডাস্টবিনের মতো মনেহয়। লোকবলের অভাব আছে, যারা আছে তারাও ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেনা। এমন পরিবেশে রোগীর সুস্থ হওয়ার চেয়ে আরও বেশি অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

পর্যাপ্ত ডাক্তার রয়েছে, কিন্তু প্রয়োজনের সময়ে কাউকে পাওয়া যায় না। দুয়েকজন নার্সের দায়িত্বে রোগী রেখে তারা প্রাইভেট ক্লিনিকে বসে বাড়তি আয় করে।

সাধারণ মানুষদেরও সচেতনতার অভাব রয়েছে। তারা যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে, ধূমপান করে ও থুথু ফেলে নোংরা পরিবেশকে আরও নোংরা করে রাখে।

মানুষের মধ্যকার শ্রেণীবিভাগ দূর করা না গেলে এই ব্যবস্থার পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। জনপ্রতিনিধিরা যেদিন নিজেদের চিকিৎসার জন্য লন্ডন বা সিঙ্গাপুর না গিয়ে এইসকল সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিবে পরিবর্তন সেদিনই আসবে। সাধারণ মানুষেরও সচেতনতার প্রয়োজন। শ্রেণীবিভাগ না করে মানুষকে মানুষ ভাবতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top